রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ৩ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন অনিকা খাতুন (১৯) নামের এক গৃহবধূ। গত শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় নিখোঁজের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
নিখোঁজ অনিকা খাতুন পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর বাজার মাইপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী আল তৌফিকের স্ত্রী এবং রাজশাহী নগরীর মতিহার থানাধীন ২৯ নং ওয়ার্ডের ডাঁশমারী এলাকার বাচ্চু মিয়ার মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে আল তৌফিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে অনিকা কালো বোরকা, সাদা জুতা এবং পিঠে চকলেট রঙের একটি ব্যাগ নিয়ে তার বান্ধবী রিতুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই অনিকার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
পরিবার আরও জানায়, বান্ধবী রিতুর বাড়ি রংপুরে। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং তার স্বামী বিদেশে থাকেন। তবে রিতু সম্পর্কে পরিবারের কাছে এর চেয়ে বেশি কোনো তথ্য নেই।
সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও অনিকার সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিন রাত ৮টার দিকে তার স্বামী আল তৌফিক পুঠিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৪৮৮) করেন।
নিখোঁজ অনিকার বড় ভাই আজমত জানান, অনিকার সঙ্গে থাকা ব্যাগে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ১০ হাজার টাকা ছিল। তিনি দাবি করেন, অনিকার সঙ্গে তার স্বামী বা পরিবারের কারও কোনো বিরোধ বা কলহ ছিল না। পরিবারের ধারণা, রিতু নামের ওই নারী কৌশলে ফুসলিয়ে অনিকাকে কোনো উদ্দেশ্যে সঙ্গে নিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। নিখোঁজ গৃহবধূকে উদ্ধারে পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরালোভাবে অব্যাহত রয়েছে।